আরিফুল ইসলাম আরিফ, উল্লাপাড়া প্রতিনিধি।।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতি বহনকারী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ভয়াবহ হামলার ঘটনা স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি—যেখানে সংরক্ষিত ছিল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অমূল্য স্মারক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে কমপ্লেক্সটিতে হামলা চালায়। তারা ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলে, গুরুত্বপূর্ণ কক্ষগুলোতে অগ্নিসংযোগ করে এবং মূল্যবান আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এতে করে শুধু আর্থিক ক্ষয়ক্ষতিই হয়নি, বরং হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বহু দুর্লভ স্মৃতিচিহ্নের।
স্থানীয় সাংবাদিক ও লেখক হাফিজুর রহমান বাবলু বলেন, “এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়—পরিকল্পিতভাবে ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা। চেয়ার-টেবিলসহ বহু আসবাব লুট হয়েছে, আর আগুনে পুড়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও স্মৃতি।”
একই সুরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হাকিম। তিনি বলেন “এত বড় ঘটনার পরও এখনো মামলা না হওয়ায় আমরা হতাশ। দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।”
এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আরিফ বলেন, “বাজেট বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে এবং কমপ্লেক্সটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, উল্লাপাড়ার এই মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটি শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ত্যাগ ও গৌরবের জীবন্ত সাক্ষ্য। এখানে সংরক্ষিত প্রতিটি স্মৃতিচিহ্ন আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামের কথা বলে।
এমন একটি ঐতিহাসিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা কেবল অবকাঠামোর ক্ষতি নয়, এটি জাতির চেতনা ও ইতিহাসের ওপর সরাসরি আঘাত। তাই দ্রুত পুনর্গঠন, নিরাপত্তা জোরদার এবং হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিচিহ্ন উদ্ধার ও সংরক্ষণের জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।